Homeআন্তর্জাতিকনভেম্বর পর্যন্ত কাতারের এলএনজি পাচ্ছে না বাংলাদেশ

নভেম্বর পর্যন্ত কাতারের এলএনজি পাচ্ছে না বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ করতে পারবে না কাতার। দেশটির রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি এ বিষয়ে ‘ফোর্স মেজর’ নোটিশের মেয়াদ বাড়িয়েছে। দুটি বাণিজ্যিক সূত্রের বরাতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।ফোর্স মেজর বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। এই জলপথ দিয়েই কাতারের এলএনজি রপ্তানির বড় অংশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়।সংঘাতের কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, আগস্টের শেষে কাতারের এলএনজি রপ্তানি ৯৬ শতাংশ কমে যায়।আইসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত কাতার মাত্র ১৮টি এলএনজি চালান রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৫০৯টি।কাতারের এলএনজির বড় ক্রেতা ইতালির জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এডিসনও সরবরাহ সংকটে পড়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত কাতারএনার্জি থেকে কোনো এলএনজি চালান পাবে না তারা।

এডিসনের সঙ্গে কাতারএনার্জির দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া ২৫ বছরের এই চুক্তির আওতায় প্রতি বছর ইতালিতে ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ করার কথা। এটি ইতালির মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ।এডিসন জানিয়েছে, কাতারের সরবরাহ না পাওয়ায় তারা এখন পর্যন্ত ২৩টি এলএনজি চালানের বিকল্প ব্যবস্থা করেছে। এর বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে।ইউরোপে শীতকাল শুরু হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। শীতের আগে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ গ্যাসের মজুত বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে সীমিত এলএনজি সরবরাহের জন্য ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দামও চড়া থাকতে পারে।ইতালি জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত গ্যাস মজুতের লক্ষ্য পূরণে তারা আত্মবিশ্বাসী। তবে জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ দ্রুত গ্যাসের মজুত পূরণের চেষ্টা করছে।ইতালির একটি জ্বালানি বাজারবিষয়ক প্ল্যাটফর্মে এডিসন জানিয়েছে, কাতারএনার্জি আরও ছয়টি এলএনজি চালান বাতিল করবে। এ নিয়ে কাতারের কাছ থেকে না পাওয়া এলএনজি চালানের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৩৫টিতে।এশিয়ার ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও নভেম্বর পর্যন্ত ফোর্স মেজর নোটিশ বাড়ানো হয়েছে বলে দুটি বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।তবে বাংলাদেশে নভেম্বরের পর সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কাতারএনার্জি এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কাতার থেকে এলএনজি আমদানি করে আসছে।কাতারের সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাংলাদেশকে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের দিকে যেতে হতে পারে।একই সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে এলএনজি কেনার প্রতিযোগিতা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে।ফলে কাতারের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য এলএনজি আমদানি ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সুত্র: রয়টার্স

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments