Homeআন্তর্জাতিকহঠাৎ ‘অস্বাভাবিক’ গোপন বৈঠকে ট্রাম্পের প্রভাবশালী কর্মকর্তারা

হঠাৎ ‘অস্বাভাবিক’ গোপন বৈঠকে ট্রাম্পের প্রভাবশালী কর্মকর্তারা

ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ ও ইয়েমেনে সৌদি আরব-হুতি সংঘাত নিয়ে শুক্রবার (২ অক্টোবর) ক্যাম্প ডেভিডে গোপন বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বৈঠকটি আগে থেকে ঘোষণা করা হয়নি, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বেশ অস্বাভাবিক ঘটনা বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।ক্যাম্প ডেভিড হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত আনুষ্ঠানিক অবকাশ যাপন কেন্দ্র বা গ্রাম্য বাসভবন।যুক্তরাষ্ট্রের তিন কর্মকর্তার বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অথবা অন্তত গভীরভাবে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, হোয়াইট হাউজের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন অংশ নেন।হোয়াইট হাউজ অবশ্য এ বৈঠক নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বৈঠকের গোপনীয়তা ও এতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রায় পুরো শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা টিমের অংশ নেওয়া বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।এমন বৈঠক হয়েছিল ২০২৫ সালেও। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক সর্বশেষ হয়েছিল ২০২৫ সালের জুনে। সেটিও হয়েছিল ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে। ফলে এবার ক্যাম্প ডেভিডে শীর্ষ কর্মকর্তাদের হঠাৎ বৈঠক ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।এবারের বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল ইরান যুদ্ধের পরবর্তী করণীয় এবং ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত থমকে যাওয়ার পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপ আবার শুরু করা হবে কি না, সেটিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।ইরানে আবার বড় হামলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশটিতে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইরানকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, এখন আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে- হয় ইরান চুক্তিতে সই করবে, নয়তো আর অস্তিত্ব থাকবে না।এর আগে ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানকে নিয়ে কূটনৈতিক ও সামরিক- দুই ধরনের বিকল্প নিয়েই আলোচনা করেছে। চলমান আলোচনায় অগ্রগতি না হলে সামরিক অভিযান আবার শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে আলোচনা চলছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) ক্যাম্প ডেভিডে যখন তার শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেছিলেন, তখন সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, ইরান নিয়ে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে।জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যদি আপনাদের বলতাম, তাহলে বড় একটি খবর হয়ে যেত।’ এরপর তিনি বলেন, ‘তবে আপনারা দেখতে পাবেন। সবকিছু খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। ইরানের অবস্থা ভালো নয়।’তবে তিনি ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

সৌদির হুতিবিরোধী অভিযান নিয়েও চাপ। ইরান ছাড়াও ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পরিকল্পিত সামরিক অভিযান নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সৌদি আরব বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হুতিদের কাছ থেকে ফিরিয়ে নিতে ইয়েমেনে বড় ধরনের অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে এরই মধ্যে খবর এসেছে। অভিযানে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত স্থলবাহিনী অংশ নেবে এবং তাদের বিমান সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।সৌদি আরব চাইছে, যুক্তরাষ্ট্রও এই অভিযানে সরাসরি যুক্ত হোক। বিশেষ করে হুতিদের অবস্থানে মার্কিন বিমান হামলা চালানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে রিয়াদ।তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প এতে আগ্রহী নন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি সৌদি আরবকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে অনিচ্ছুক ছিলেন। যদিও পরিস্থিতি বদলালে তাঁর অবস্থানও পরিবর্তিত হতে পারে।এর আগে সৌদি আরবের পরিকল্পিত অভিযানের বিষয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু-সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে রিয়াদকে সহায়তা করছে। সৌদি বাহিনী হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালে ওয়াশিংটনের সহায়তা কতটা বাড়বে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।ক্যাম্প ডেভিডের বৈঠকটি এমন সময়ে হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা একই সঙ্গে চলছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ও অচল কূটনৈতিক আলোচনা, অন্যদিকে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সম্ভাব্য বড় অভিযান—দুই পরিস্থিতিই ওয়াশিংটনের জন্য নতুন সিদ্ধান্তের চাপ তৈরি করেছে।

বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ইয়েমেনে সংঘাত বাড়লে রেড সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও নতুন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে এর নিরাপত্তা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানে যাবে কি না, সেটিও এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে বড় সিদ্ধান্ত। ক্যাম্প ডেভিডে শীর্ষ কর্মকর্তাদের আকস্মিক বৈঠক সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কতটা সক্রিয় হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে বৈঠকে ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments