Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি পেতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অঙ্কের ফি নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এফ-১ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) নিতে কমপক্ষে ৭০ হাজার ডলার দিতে হতে পারে।বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত সরকারি নোটিশে এই প্রস্তাবের কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এফ-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের জন্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানে ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হবে। অতিরিক্ত কোনো কর্মপ্রশিক্ষণ নিতে হলে দিতে হবে আরও ৩০ হাজার ডলার।হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, নতুন এই নিয়মের উদ্দেশ্য হলো প্রতারণা ঠেকানো, অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো এবং মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।

বর্তমান ওপিটি ব্যবস্থায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময় সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজের প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। স্নাতক হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সুযোগ থাকে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সময়ের জন্যও কাজের প্রশিক্ষণের সুযোগ পান।বর্তমানে ওপিটিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৫০০ ডলার ফি দিতে হয়। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই ফি এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাবে।হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, এফ-১ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের শর্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থী, নিয়োগকর্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই নতুন ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে।

এইচ-১বি ভিসার পথেও প্রভাব

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ওপিটি অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি চাকরির সুযোগ পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে কাজ করে। ওপিটির মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর অনেকেই এইচ-১বি ভিসার আওতায় চাকরি করার চেষ্টা করেন।গত কয়েক দশক ধরে ভারত, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। পরে অনেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগও পেয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও দক্ষ বিদেশি কর্মীদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে এইচ-১বি ভিসা ব্যবস্থাতেও বিভিন্ন ফি ও বিধিনিষেধ নিয়ে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে।তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার সুযোগ সহজ করার কথা বলেছিলেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড দেওয়ার প্রস্তাবের কথাও তিনি বলেছিলেন।

আইনি চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নতুন প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। তবে এটি কার্যকর হলে আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন ও বিদেশি কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা।বিদেশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে আকৃষ্ট করার কাজে যুক্ত ট্যালেন্ট মোবিলিটি ফান্ডের পরিচালক ডগ র‍্যান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, এই প্রস্তাব আদালতে টিকবে না বলে তিনি মনে করেন।তিনি দাবি করেন, এর আগে এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ১ লাখ ডলারের ফি এবং বিদেশি কর্মীদের ওপর অন্যান্য বিধিনিষেধও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল।প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর এর বড় ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ফি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সুত্র: রয়টার্স

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments