মেসির বিদায়ী ম্যাচে ইতিহাসের অংশ হতে পেরে আনন্দিত বেনিন। কিন্তু ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন তারকার সঙ্গে দেখা কিংবা জার্সি বদলের সুযোগ না পাওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই ফিরেছে আফ্রিকার দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত কোচ লিওনেল স্কালোনির সহায়তায় মেসির স্বাক্ষর করা একটি জার্সি নিজের কাছে রাখতে পেরেছেন বেনিন কোচ জারনট রোর।বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের সাক্ষী হয়েছে বেনিন। ম্যাচটি শুধু ফলাফলের দিক থেকে নয়, বেনিনের তরুণ ফুটবলারদের জন্যও ছিল এক বিরল অভিজ্ঞতা। এমন একটি ঐতিহাসিক সন্ধ্যার অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বসিত দলটির কোচ জারনট রোর।ফ্রান্সের আরএমসি স্পোর্ট-এর ‘Rothen s’enflamme’ অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে রোর বলেন, ‘আমরা ইতিহাসের অংশ হতে পেরে খুব খুশি, বিশেষ করে লিওনেল মেসির মতো একজন ফুটবল কিংবদন্তির বিদায়ী ম্যাচে। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে এই ম্যাচ খেলাটা আমার তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা।’

তবে ম্যাচ শেষে মেসির কাছ থেকে কোনো স্মারক পাওয়ার সুযোগ হয়নি বেনিনের খেলোয়াড়দের। এমনকি আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমের টানেলেও ঢুকতে পারেননি তারা। রোর বলেন, ‘একমাত্র আক্ষেপ হলো, আর্জেন্টাইনরা আমাদের খেলোয়াড়দের কিছুই দেয়নি। মেসির সঙ্গে একটি ছবিও নয়। আমরা জার্সি বদল করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু একটিও জার্সি পাইনি।’নিরাপত্তাকর্মীদের কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল বলে জানান তিনি। রোরের ভাষায়, ‘তারা আমাদের আর্জেন্টিনার টানেলেও ঢুকতে দেয়নি। নিরাপত্তাকর্মীরা সবাইকে ফিরিয়ে দিচ্ছিল। আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে জার্সি বদল করার জন্য নিজেদের জার্সি নিয়ে গিয়েছিল। আমরা সবকিছু চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।’
তবে মেসিকে ঘিরে নিজের ব্যক্তিগত একটি স্মারক পাওয়ার গল্পও শুনিয়েছেন রোর। তার কাছে থাকা ২০১৮ সালের একটি মেসি-স্বাক্ষরিত জার্সি তিনি কোচ স্কালোনির হাতে তুলে দেন। সেই জার্সিতে স্কালোনিও স্বাক্ষর করেন এবং পরে সেটি রোরকে ফিরিয়ে দেন।রোর জানান, ‘আমি আমার ২০১৮ সালের মেসির জার্সিটি স্কালোনিকে দিতে পেরেছিলাম। ওই জার্সিতে আর্জেন্টিনার তারকা নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচের পর আমার জন্য স্বাক্ষর করেছিলেন। স্কালোনি জার্সিটিতে নিজের স্বাক্ষর করে সেটি আমাকে ফিরিয়ে দেন। আমি প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলাম।’সবশেষে ম্যাচের ফল নয়, এমন একটি ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতাকেই বড় করে দেখেছেন বেনিন কোচ। তার মতে, তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য মেসির বিদায়ী ম্যাচে খেলার সুযোগ পাওয়াটাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।রোর বলেন, ‘সবকিছুই দুর্দান্ত ছিল। ফলাফল আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল না। ক্রীড়াগত দিক থেকে আমাদের লক্ষ্য ছিল শেখা এবং তরুণ খেলোয়াড়দের এমন একটি সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেওয়া, যা একদিন তারা কল্পনাও করতে পারেনি।’মেসির বিদায়ী রাত তাই শুধু আর্জেন্টিনার জন্য নয়, বেনিনের তরুণ ফুটবলারদের জন্যও হয়ে থাকল স্মরণীয় এক অধ্যায় যেখানে ফলাফলের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল ফুটবলের এক কিংবদন্তির শেষ আন্তর্জাতিক সন্ধ্যার অংশ হয়ে থাকা।


