দেশের নাগরিক সমাজেও এখন বিভাজন দেখা দিয়েছে। নিরাপদ ভবিষ্যতের চিন্তায় তাদের অনেকেই এখন বিদেশমুখী। নাগরিক পরিসরের উন্নয়নে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।মঙ্গলবার রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ‘বাংলাদেশ সিভিক স্পেস নেটওয়ার্ক’।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা ও তথ্য অধিকার বাস্তবায়নে বিশ্বজুড়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিনের উদ্যোগে তরুণ, নারী ও ট্রান্সজেন্ডার নেতৃত্বাধীন দেশের আটটি বিভাগের ২৩টি কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠনের সমন্বয়ে এই নেটওয়ার্ক গঠিত হয়েছে।
আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানা।
আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, চলতি বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ বছর পূর্তি হবে। গত ৫০ বছরে প্রণীত বিভিন্ন আইন সংবিধানের আলোকে পর্যালোচনা করে সংশোধন এমনকি বাতিল পর্যন্ত করা হয়েছে। অথচ ঔপনিবেশিক শাসনকালের বিভিন্ন নিবর্তনমুলক আইন বাতিল করার ক্ষেত্রে এমন তৎপরতা নেই। বরং ওই সব আইন স্বাধীন দেশের নাগরিকদের অধিকার খর্ব করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।অধ্যাপক ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানা বলেন, ঔপনিবেশিক আইনে যৌন বৈচিত্রপূর্ণ মানুষের প্রতি ঘৃণার প্রকাশ হিসেবে শাস্তিমূলক বিধান রাখা হয়েছিল। বর্তমান সময়ে এ ধরনের আইন মানবিক মর্যাদার পরিপন্থি।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া রাষ্ট্র কাঠামোয় গুণগত ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। এজন্য নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে।সভাপতির বক্তব্যে আর্টিকেল নাইনটিন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া নাগরিক পরিসরের উন্নয়ন ও প্রসার সম্ভব নয়। নবগঠিত নেটওয়ার্ক নাগরিক অধিকার বিষয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা, চ্যালেঞ্জ, সীমাবদ্ধতা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে বাধা ও চ্যালেঞ্জ উত্তরণে যৌথ কর্মপন্থা ঠিক করবে ।
নাগরিক পরিসরে ট্রান্সজেন্ডার, নারী ও তরুণদের গুণগত অংশগ্রহণ বাড়াতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এডভোকেসি করা, অনলাইনে সচেতনতামুলক ক্যাম্পেইন করা এবং নেটওয়ার্কভুক্ত সংগঠনগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় পারস্পরিক সহযোগিতা করাই নেটওয়ার্ক গঠনের উদ্দেশ্য বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
