Homeআন্তর্জাতিকভারতীয়দের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে ট্রাম্পের ভিসা নীতি

ভারতীয়দের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে ট্রাম্পের ভিসা নীতি

যুক্তরাষ্ট্রে এমবিএ করার স্বপ্ন নিয়ে ঘুরছেন আশিস চৌহান (ছদ্মনাম)। আগামী বছর কোনো মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান তিনি। এই লক্ষ্য তার ‘মাথায় গেঁথে আছে’। আর্থিক ব্যবস্থাপনা খাতে কর্মরত ২৯ বছর বয়সী এই ভারতীয় তরুণ এমবিএ’র পাঠ চুকিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই চাকরি করতে চান। কিন্তু তাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে নতুন ভিসা নীতি।এই উদ্বেগের পেছনে রয়েছে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি, যা দক্ষ বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ দেয়। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই কর্মসূচিকে কীভাবে পরিচালনা করবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এর আগে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এইচ-১বি ভিসার প্রক্রিয়া কঠিন করা হয়েছিল।এইচ-১বি ভিসা প্রাপকদের মধ্যে ৭২ শতাংশই ভারতীয়। তালিকায় পরের অবস্থানে রয়েছে চীন (১২ শতাংশ)। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও গণিত খাতে কাজ করা বিদেশি কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই ভিসা কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৩ সালে এই ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে কম্পিউটার খাতে কর্মরত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৬৫ শতাংশ, যাদের গড় বার্ষিক আয় ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার।যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ বেতনের চাকরির সুযোগ অনেক ভারতীয়কে আকৃষ্ট করে। ‘দ্য আদার ওয়ান পার্সেন্ট’র এক সমীক্ষা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়রা শিক্ষাগত এবং অর্থনৈতিকভাবে সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। তবে ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং গ্রিন কার্ডের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এক লাখের বেশি ভারতীয় কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষা করছেন। এ বিষয়ে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অটল আগরওয়াল বলেন, গ্রিন কার্ড পেতে ২০-৩০ বছরের অপেক্ষা অত্যন্ত হতাশাজনক। এটি কর্মসংস্থানের জন্য একধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে এইচ-১বি ভিসার জন্য কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন। ২০১৮ সালে এই ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ২৪ শতাংশে পৌঁছায়, যা বারাক ওবামার সময় ছিল পাঁচ থেকে আট শতাংশ। জো বাইডেনের শাসনামলে এই হার দুই থেকে চার শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এই ভিসা নীতি কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞ স্টিফেন ইয়েল-লোহরের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে ভিসা প্রক্রিয়া কঠিন করা হয়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদেও এমনটা হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।আশিস চৌহানের মতো অনেক ভারতীয় তরুণ যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা এবং কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু ভিসা নিয়ে বর্তমান অনিশ্চয়তা তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রভাবিত করছে। চৌহান বলেন, ভিসা সমস্যা থাকলেও আমি আমার স্বপ্নের পিছু ছাড়তে পারি না। কারণ, জীবন থেমে থাকে না।যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা নীতি শুধু ভারতীয়দের অর্থনৈতিক উন্নতির পথ খুলে দেয়নি, বরং মার্কিন অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করেছে। তবে আসন্ন প্রশাসনিক নীতিমালা ভারতীয়দের ভবিষ্যৎ পথচলা কতটা প্রভাবিত করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments