ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চালানো এসব হামলা রাজধানী কিয়েভ থেকে শুরু করে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।হামলার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী পোল্যান্ড নিজেদের আকাশসীমার নিরাপত্তায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।এই হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। সফরে তিনি জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।ইউক্রেনের অধিকাংশ অঞ্চলে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎসকো জানান, কয়েকটি আবাসিক নয় এমন স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভে একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। এছাড়া দনিপ্রোপেত্রভস্ক ও পোলতাভা অঞ্চলে আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে।জেলেনস্কির নিজ শহর মধ্য ইউক্রেনের ক্রিভি রিহ-এ রুশ হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে।শহরের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান ওলেক্সান্দর ভিলকুল জানান, রাশিয়ার ছোড়া ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ভিলকুল বলেন, এটি ছিল একটি অন্ধকার রাত। তিনি জানান, রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চল থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি বড় পরিবারের বাড়িতে আঘাত হানে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।পোল্যান্ড সীমান্তের কাছাকাছি পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, দুটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।এর আগে জেলেনস্কি সতর্ক করেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের মানুষের নিরাপত্তা নির্ভর করছে মিত্র দেশগুলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহে কতটা প্রস্তুত তার ওপর।তিনি টেলিগ্রামে লিখেন, আমাদের অংশীদাররা কী ঘটছে তা পুরোপুরি বুঝতে পারা গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের জীবন রক্ষা সরাসরি তাদের ইচ্ছা ও প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করছে।রাশিয়ার হামলার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ড নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষায় যুদ্ধবিমান উড়িয়েছে।পোল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধবিমান ও একটি আগাম সতর্কীকরণ বিমান কার্যক্রম শুরু করেছে। পাশাপাশি ভূমিভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার নজরদারি ব্যবস্থা সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে।তারা জানিয়েছে, এসব পদক্ষেপ ছিল পূর্ব সতর্কতামূলক।এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার অন্যতম বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছেন পেনজা অঞ্চলের গভর্নর ওলেগ মেলনিচেঙ্কো।
তিনি জানান, হামলায় একজন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।এর একদিন আগেও প্রতিষ্ঠানটি মধ্য রাশিয়ার আরেকটি স্থাপনা থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছিল। ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পেনজার ঘটনার পর তারা তাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে।ওয়াইল্ডবেরিজ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের প্রায় এক ডজন গুদাম ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তাদের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলার ফলে প্ল্যাটফর্মটির ওপর নির্ভরশীল হাজারো ছোট ব্যবসা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল শোধনাগারগুলোতেও হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশটির জ্বালানি সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সুত্র: রয়টার্স
