Homeআন্তর্জাতিককিম জং উনের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

চলতি বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন, এবার সেই সম্পর্ক নতুন করে জোরদার করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে ‘ভালো সম্পর্ক রাখা’ গুরুত্বপূর্ণ।২০২৬ সালের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, করবো।

তবে কিমের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরে চীনের শেনঝেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন বা এপেক সম্মেলনে যাওয়ার সময় কিমের সঙ্গে বৈঠকের কথা ভাবছেন তিনি।কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে।রোববার ট্রাম্প হঠাৎ ঘোষণা দেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কিছু ‘বৈরী’ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কিমের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন।বুধবার ট্রাম্প বলেন, এসব সামরিক মহড়া কিমের কাছে ‘অত্যন্ত অপমানজনক’ এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা সাম্প্রতিক সময়ে ‘খুব ভালো আচরণ করেছেন’।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক উলচি ফ্রিডম শিল্ড সামরিক মহড়াও নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগে শেষ হবে বলে জানানো হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই মহড়ার সময় কমানো হচ্ছে।তবে পেন্টাগন বলেছে, মহড়ার সময় কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রশিক্ষণের লক্ষ্য পূরণে কোনো ঘাটতি হবে না।উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে প্রতিবছর এই সামরিক মহড়া আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে এসব মহড়ার বিরোধিতা করে আসছে এবং এগুলোকে উত্তর কোরিয়ায় সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে দেখে।ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের সম্ভাব্য যোগাযোগের খবর নিয়ে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে।কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বুধবার বলেন, তার ভাই ও ট্রাম্পের মধ্যে সাম্প্রতিক যোগাযোগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটন থেকে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের মধ্যে যোগাযোগের যে খবর এসেছে, সে বিষয়ে তিনি ‘সম্পূর্ণ অজ্ঞাত’।তবে একই বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, তার ভাইয়ের ট্রাম্পের বিষয়ে ‘ভালো স্মৃতি ও অনুভূতি’ রয়েছে এবং দুই নেতার সম্পর্ক এখনো ‘চমৎকার’।তবে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া কমানোর বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি বলেন, এ নিয়ে মন্তব্য করার মতো কোনো আগ্রহ তাদের নেই এবং বিষয়টি তাদের কাছে ‘সম্পূর্ণ অনাগ্রহের’।ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে কিম জং উনের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন। ২০১৯ সালে তাদের সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।এর আগে ট্রাম্প কিমকে ‘রকেট ম্যান’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন এবং উত্তর কোরিয়াকে কঠোর সামরিক হুমকিও দিয়েছিলেন। পরে দুই নেতার মধ্যে সরাসরি বৈঠক হয় এবং ট্রাম্প দাবি করেন, চিঠি বিনিময়ের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।

তবে ওই ঐতিহাসিক বৈঠকগুলো সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে বড় কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এখন পর্যন্তও কিমের সঙ্গে তার কোনো বৈঠক হয়নি।এদিকে কিমের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার ট্রাম্পের উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত এশিয়ার মিত্রদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সময়ে ইরান যুদ্ধ নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক অগ্রগতি ট্রাম্পের জন্য নতুন একটি বৈদেশিক নীতিগত সাফল্যের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রয়েছে। সেই যুদ্ধ পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়নি; বরং যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটে।

সুত্র: এএফপি

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments