এমন পারফরম্যান্সই বোধহয় দেখতে চেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ থমাস টুখেল। তার অধীনে সবচেয়ে দাপুটে পারফরম্যান্সটাই উপহার দিয়েছে ইংল্যান্ড। উয়েফা নেশন্স লিগে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৭-০ গোলের জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড।রিজেকায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বড় জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড।আগের ম্যাচে সমর্থকদের অসদাচরণের শাস্তি হিসেবে ম্যাচটি আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে মাঠে প্রায় ৬ হাজার স্কুলশিক্ষার্থী এবং সফরকারী দলের ১০০ সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই স্লাভেন বিলিচের দলকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে ইংল্যান্ড।

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ওয়েম্বলিতে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে প্রাগে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ড। এবার ক্রোয়েশিয়াকে বিধ্বস্ত করে দিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিলো ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের ডালাসে একই প্রতিপক্ষকে ৪-২ গোলে হারানোর ১০৮ দিন পর এবার ক্রোয়েশিয়াকে একেবারে উড়িয়ে দিল তারা।ম্যাচের ৮ মিনিটে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন হ্যারি কেইন। ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার জস্কো গভার্দিওলের ভুলের পূর্ণ সুবিধা নিয়ে জুড বেলিংহামের পাস নিয়ন্ত্রণে নেন কেইন। এরপর দুর্দান্ত শটে ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক দোমিনিক লিভাকোভিচকে পরাস্ত করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেলিংহাম ২১ মিনিটে। অ্যান্থনি গর্ডনের দুর্দান্ত প্রচেষ্টায় বুকায়ো সাকার ক্রস নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে ইংল্যান্ডকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বেলিংহাম।জ্যারেল কোয়ানসার নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করেন গর্ডন। জাতীয় দলের হয়ে টানা চার ম্যাচে এটি গর্ডনের চতুর্থ গোল।ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে যখন ইচ্ছেমতো বোকা বানাচ্ছিল ইংল্যান্ড। বিরতির ঠিক আগে চতুর্থ গোলটি করেন সাকা। বেলিংহামের বাড়ানো বলে সহজ ফিনিশিংয়ে ইংল্যান্ডের ব্যবধান হয় ৪-০।বিরতির পরও ইংল্যান্ডের আক্রমণের ধার কমেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর আট মিনিটের মধ্যেই আবারও গোল করেন কেইন। এলিয়ট অ্যান্ডারসনের ক্রসে দূরের পোস্টে স্লাইড করে পা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৫-০ করেন তিনি।নিজেদের ভুলেই আরও বিপদ ডেকে আনছিল ক্রোয়েশিয়া। রক্ষণভাগের আরেকটি ভয়াবহ ভুলের সুযোগ নিয়ে সহজেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন সাকা। ইংল্যান্ডের লিড বেড়ে যায় ৬-০।এরপর বদলি হিসেবে নামা মরগান রজার্সও গোলের খাতায় নাম লেখান। লিভাকোভিচকে কাটিয়ে বল জালে পাঠিয়ে ইংল্যান্ডের জয়কে আরও বড় রূপ দেন তিনি।শেষ পর্যন্ত ৭-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।


