আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের আরও কার্যকরভাবে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।শনিবার (৩ অক্টোবর) চট্টগ্রামে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রামের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রম আদালতের বিচারকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নাসিরাবাদে শিল্প সম্পর্ক শিক্ষায়তন মিলনায়তনে সভাটি হয়।মন্ত্রী বলেন, বিদেশে গ্রাফিক্স ডিজাইনারসহ বিভিন্ন পেশার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে সম্ভাবনাময় এসব খাত সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা নেই। চাহিদাসম্পন্ন পেশাগুলো সম্পর্কে প্রচার বাড়ানোর পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি জানান, চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছে। বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এসব প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করা হলে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে আরও বেশি অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হবে।মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার ও বিএসআরএমের সহযোগিতায় বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের (টিটিসি) উন্নয়নকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে চান তিনি। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা নিয়ে টিটিসিকে আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
টিটিসিতে জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন জনবল নিয়োগে সময় লাগবে। কিন্তু এখন অপেক্ষা করে থাকার সুযোগ নেই। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের মেয়র এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন এবং শ্রমিকদের কল্যাণেও এগিয়ে আসছেন।চট্টগ্রামের শ্রম আদালতের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ লক্ষ্যে একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ও একজন প্রকৌশলীকে দিয়ে দ্রুত পরিদর্শনের কথাও জানান তিনি।এছাড়া শ্রম আদালতে কনফারেন্স রুম, নারী বিচারপ্রার্থীদের জন্য পৃথক বসার কক্ষ এবং লিগ্যাল এইড-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সুবিধা দ্রুত নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।এর আগে মন্ত্রী চট্টগ্রামে বাংলাদেশ-কোরিয়া টিটিসি ও মহিলা টিটিসি পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে, বিশেষ করে ইংরেজিতে দক্ষ হলে, বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার আরও বেশি উন্মুক্ত হবে।
চিকিৎসক হিসেবে নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আধুনিক ও মানসম্মত নার্সিং শিক্ষা বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপাশি বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ নার্সদের ব্যাপক চাহিদার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, কেরালা, বেঙ্গালুরু, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের মতো অঞ্চলের নার্সরা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। কারণ তারা উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। বাংলাদেশের নার্সদের মধ্যেও সেই প্রতিভা রয়েছে; তবে প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষণ, দিকনির্দেশনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা।টিটিসিকে আরও গতিশীল করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মেয়র। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
মেয়র বলেন, এ উদ্যোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সর্বাত্মক সহায়তা দেবে। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুর রহমান তরফদার, চট্টগ্রাম দ্বিতীয় শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছা, চট্টগ্রাম প্রথম শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ ওসমান গনি এবং বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক হাফেজ আহমদ মজুমদার।


