এআই যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই বাড়ছে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা। এ প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও এবার নিরাপত্তার একটি জায়গায় দুই দেশকে একই টেবিলে বসতে হচ্ছে।বড় কোনো এআই ঝুঁকি তৈরি হলে একে অপরকে দ্রুত জানানোর জন্য নতুন একটি ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে প্রায় আট ঘণ্টার বৈঠকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেং এ বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার ও চীনের প্রধান বাণিজ্য আলোচক লি চেংগ্যাংও অংশ নেন।বৈঠক শেষে বেসেন্ট আলোচনাকে ‘খুব সফল’ বলে মন্তব্য করেছেন।বেসেন্ট জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই নিয়ে আলাদা একটি সংলাপও হতে পারে। এআই সম্পর্কিত কোনো ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করলে সে বিষয়ে দুই দেশ একে অপরকে জানানোর ব্যবস্থা থাকবে।বিশ্বের শীর্ষ দুই এআই শক্তির মধ্যে এ ধরনের তথ্য আদানপ্রদান ও স্বচ্ছতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।তবে, উন্নত এআই চিপ ও সেমিকন্ডাক্টর তৈরির সরঞ্জামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এ প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আলোচনায় ছিল না বলে জানিয়েছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার।তিনি বলেন, এ বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠকের আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে নেওয়া।চীনের পক্ষ থেকেও আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুই পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে খোলামেলা, গভীর ও গঠনমূলক আলোচনা করেছে। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সংলাপের বিষয়টিও ছিল।

একই সঙ্গে বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে। গত মে মাসে দুই দেশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর একটি প্রক্রিয়ায় সম্মত হয়েছিল। নিউইয়র্কের বৈঠকে সেই প্রক্রিয়া কীভাবে কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।সম্ভাব্য পণ্যের মধ্যে চীনের ভোক্তা ও কম প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, কৃষিপণ্য ও চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকার কথা রয়েছে।এ আলোচনা এমন সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যবিরতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে। গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে হওয়া চুক্তিতে চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক প্রায় ২০ শতাংশে সীমিত করা হয়েছিল।তবে, চীনের বিরল মাটির চুম্বক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ নিয়ে এখনো সমাধান হয়নি। গাড়ি থেকে শুরু করে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে এসব খনিজ প্রয়োজন হয়।বৈঠকের পর বেসেন্ট ও গ্রিয়ার জানান, ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের আসন্ন বৈঠকের আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়াই ছিল এ বৈঠকের লক্ষ্য। তবে, এআই নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
সুত্র: আল জাজিরা


