পুরোনো ক্লাবের মাঠে ফিরেই জয় পেলেন লিভারপুল কোচ আন্দোনি ইরাওলা। বোর্নমাউথের ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ১-০ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন সুইডিশ ফরোয়ার্ড আলেকজান্ডার ইসাক।দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৫৭ মিনিটে ইসাকের করা গোলই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। কোডি গাকপোর দারুণ একক প্রচেষ্টার পর তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে জালে বল পাঠান তিনি। এই ম্যাচ দিয়ে জয়ে ফিরলো লিভারপুল। প্রিমিয়ার লিগে আগের ম্যাচে ফুলহ্যামের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিলো তারা। তবে বোর্নমাউথকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে অপরাজিত থাকার ধারাও আরও দীর্ঘ করল লিভারপুল। একই সঙ্গে ইরাওলার জন্য এটি লিভারপুলের দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয় জয়।ইসাকের জন্যও ম্যাচটি ছিল বিশেষ। নতুন মৌসুমে মাত্র পাঁচ লিগ ম্যাচেই তিনি আগের পুরো প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের চেয়ে বেশি গোল করে ফেলেছেন। চলতি মৌসুমে এটি তার চতুর্থ গোল।বোর্নমাউথের হয়ে তিন মৌসুম দায়িত্ব পালন করেছিলেন ইরাওলা। গত মৌসুমে ক্লাবটিকে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় জায়গা করে দেওয়ার পর অ্যানফিল্ডের দায়িত্ব নেন তিনি। ফলে ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে ছিল বাড়তি আগ্রহ।ম্যাচ শুরুর আগে ইরাওলাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় বোর্নমাউথের সমর্থকরা। মাঠে প্রবেশের সময় সাবেক ক্লাবের সঙ্গে তার আবেগঘন মুহূর্তও দেখা যায়। জার্মান কোচ মার্কো রোজের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন তিনি। তবে আবেগ একপাশে রেখে ম্যাচে জয়ের জন্যই মাঠে নামে ইরাওলার লিভারপুল।

বোর্নমাউথও ম্যাচের আগে ইউরোপীয় অভিযানের ঐতিহাসিক শুরু করেছিল। বৃহস্পতিবার সান সেবাস্তিয়ানে রিয়াল সোসিয়েদাদকে হারিয়ে ইউরোপের মঞ্চে নিজেদের অভিযান শুরু করে তারা। সেই ম্যাচের কারণে লিভারপুলের তুলনায় দুই দিন কম বিশ্রাম পেয়েছিল স্বাগতিকরা।বোর্নমাউথের একাদশে একটি পরিবর্তন আনেন রোজ। স্পেনে চোট পাওয়া জাস্টিন ক্লুইভার্টের জায়গায় শুরু করেন রায়ান ক্রিস্টি। অন্যদিকে লিভারপুলের একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনেন ইরাওলা। কোডি গাকপো, মিলোস কেরকেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার জায়গা পান রায়ান গ্রাভেনবার্খ, ভিক্টর মুনিওস ও কোস্তাস সিমিকাসের পরিবর্তে।ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল সতর্ক। লিভারপুল বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও বোর্নমাউথ নিজেদের রক্ষণভাগ গুছিয়ে রেখে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুঁজছিল।
দশম মিনিটে ভালো একটি সুযোগ পেয়েছিল লিভারপুল। টাইলার অ্যাডামসের ফাউলের শিকার হন ফ্লোরিয়ান ভির্টজ। গোলের বেশ ভালো অবস্থান থেকে ফ্রি-কিক পায় সফরকারীরা। কিন্তু ডমিনিক সোবোসলাইয়ের নেওয়া শট ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে গ্যালারিতে চলে যায়। এরপর ম্যাচের গতি কিছুটা কমে আসে। দুই দলের লড়াই ছিল বেশ জমাট, কিন্তু গোলের সুযোগ তৈরি হচ্ছিল কম।প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে বোর্নমাউথ কিছুটা চাপ তৈরি করে। বাম দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে মার্কাস ট্যাভার্নিয়ার বল বাড়ান এভানিলসনের দিকে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড কাছের পোস্ট দিয়ে লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে পরাস্ত করার চেষ্টা করেন। তবে অ্যালিসন দ্রুত নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে দেন।
এরপর লিভারপুলও আক্রমণে ফেরে। আধঘণ্টা পেরোনোর পর ব্র্যাডলি বারকোলার শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলের দিকে যাচ্ছিল। তবে বোর্নমাউথ গোলরক্ষক জর্জে পেত্রোভিচ পা দিয়ে সেটি আটকে দেন।কিছুক্ষণ পর আবারও ফ্রি-কিক থেকে সুযোগ তৈরি করেন সোবোসলাই। এবার আগের চেয়ে ভালো শট নিলেও বল অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। দুই দলই আক্রমণ করছিল, কিন্তু শেষ পাস কিংবা ফিনিশিংয়ে গিয়ে বারবার আটকে যাচ্ছিল। বোর্নমাউথের জন্য বিপদ তৈরি হতে পারত একটি ভুল পাস থেকে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেন টাইলার অ্যাডামস। অন্যদিকে ক্রিস্টি রায়ানের ক্রস থেকে সুযোগ পেয়েও শটটি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত ৫৭ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইসাক। ডান দিক দিয়ে বল নিয়ে দুর্দান্তভাবে এগিয়ে যান গাকপো। প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ সামলে তিনি জায়গা তৈরি করে ক্রস বাড়ান। ক্রসটি ভির্টজকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হলেও চাপের মধ্যে জার্মান ফরোয়ার্ড বলের সঙ্গে ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি।তবে ভির্টজের কাছাকাছিই অপেক্ষায় ছিলেন ইসাক। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত বলের দিকে এগিয়ে গিয়ে সুইডিশ ফরোয়ার্ড দারুণ দক্ষতায় শট নেন। বল জালে জড়িয়ে যায়। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল।চলতি মৌসুমে পাঁচ ম্যাচেই এটি ইসাকের চতুর্থ প্রিমিয়ার লিগ গোল। ফলে নতুন ক্লাবে নিজের মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটিও যে দ্রুত এগোচ্ছে, এই গোল তারই আরেকটি প্রমাণ।
গোল খাওয়ার পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে বোর্নমাউথ। এভানিলসন একাধিকবার আক্রমণে উঠে লিভারপুলের রক্ষণে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেন। ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটের কিছু বেশি সময় বাকি থাকতে আবারও সুযোগ পান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তবে তার নেওয়া শট সহজেই নিয়ন্ত্রণে নেন অ্যালিসন। এর আগে অ্যালেক্স স্কটের ফ্রি-কিক সামলাতে গোললাইন থেকে বেরিয়ে এসে বল ঘুষি মেরে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন লিভারপুলের ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক।শেষদিকে সেট-পিস থেকে কয়েকবার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে বোর্নমাউথ। কিন্তু লিভারপুলের রক্ষণভাগ সেসব সামলে নেয়। ফলে আর কোনো গোল হয়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয় লিভারপুলের।


