ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে আলোচনায় আসছে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা। এই দুই দেশের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। তবে ইরানকে চীন ও রাশিয়া সহায়তা করছে বলে বিশ্বাস করেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।গত সোমবার (১২ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান ট্রাম্প।চীন ও রাশিয়া ইরানকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশ দুটি সহায়তা করলেও তা খুবই সামান্য পর্যায়ে। তবে চীন ও রাশিয়া আদৌ ইরানকে সহায়তা করছে বলে বিশ্বাস করেন না তিনি।

এর আগে, গত জুলাইয়ে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মে মাসে চীনে বৈঠকের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে বলেছেন, চীন কোনো অবস্থাতেই ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবে না।এমনকি চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও ইরানের কাছে অস্ত্র পাঠানো হবে না বলে তাকে আশ্বস্ত করেছেন শি।একইভাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি না করার কথা তাকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প।সে সময় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, চীন ও রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করতে গিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে দেশ দুটিকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। ইরানকে সহায়তা করতে গিয়ে দেশ দুটি সংঘাতে জড়ালে এর পরিণতি ভালো হবে না বলে মনে করেন তিনি।এদিকে, গত মে মাসে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের নেটওয়ার্ককে সহায়তা এবং স্যাটেলাইটের ছবি সরবরাহের অভিযোগে কয়েকটি চীনা কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।এসব স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করে ইরান মার্কিন বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করতে এবং সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পেরেছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের।তবে, চীন ইরানের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে, একদিকে ট্রাম্প চীন ও রাশিয়ার সামরিক সহায়তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও, অন্যদিকে ইরানকে সহায়তার অভিযোগে চীনা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে তার প্রশাসন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।একই সঙ্গে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান।পরে, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। তবে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধ রয়ে গেছে। ফলে, সমঝোতা বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা থমকে আছে।
সুত্র: আনাদলু এজেন্সি


