Homeখেলাধুলাছয় বলে ছয় ছক্কা হাকালেন পোলার্ড

ছয় বলে ছয় ছক্কা হাকালেন পোলার্ড

পৃথিবীর এই গোলার্ধের বেশিরভাগ মানুষ তখন গভীর ঘুমে মগ্ন। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজে তখন সবেমাত্র বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। সময়ের এই পার্থক্যের কারণে ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় একটা অংস সরাসরি দেখতে পারেননি একই ম্যাচে আকিলা ধনঞ্জয়া ও কাইরন পোলার্ডের অবিশ্বাস্য দুই কীর্তি।

অ্যান্টিগার সময় মোতাবেক ৩ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কা। ম্যাচের প্রথম ইনিংস ছিল সাদামাটা। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩১ রান করতে পেরেছিল শ্রীলঙ্কা।

আসল ঘটনা ঘটে দ্বিতীয় ইনিংসে। লঙ্কানদের ছুড়ে দেয়া মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে’তেই ধনঞ্জয়ার স্পিন জালে আটকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইনিংসের মাত্র তিন ওভারের মধ্যেই দলীয় পঞ্চাশ পূরণ করে ক্যারিবীয়রা। এরপরই প্রথম চমক নিয়ে হাজির হন ধনঞ্জয়া।

ডানহাতি এ স্পিনারের করা চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হন ১০ বলে ২৮ রান করা এভিন লুইস, তৃতীয় বলে ‘সোনার হাঁস’ নিয়ে ফেরেন ক্রিস গেইল। ঠিক পরের বলে নিকোলাস পুরানকে সাজঘরে পাঠিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক তুলে নেন ২৭ বছর বয়সী এ স্পিনার।

তবে হ্যাটট্রিকের আনন্দটা বেশিক্ষণ টেকেনি তার মুখে। ষষ্ঠ ওভারে ফের আক্রমণে আসেন ধনঞ্জয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ তখন ৫ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ৬২ রান। ধনঞ্জয়ার করা ষষ্ঠ ওভার শেষে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৯৮ রান। অর্থাৎ সেই ওভারে আসে পুরো ৩৬ রান।

ধনঞ্জয়ার ওভারের প্রতিটি বলে ছক্কা হাঁকান ক্যারিবীয় অধিনায়ক পোলার্ড। হার্শেল গিবস ও যুবরাজ সিংয়ের পর মাত্র তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছয় বলে ছয় ছক্কার কীর্তি গড়েন পোলার্ড। যার সুবাদে প্রথম পাওয়ার প্লে’তে বিশ্বরেকর্ড ৯৮ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

পোলার্ডের এই ঝড়ে মাত্র ১৩.১ ওভারেই ম্যাচ জিতে নেয় স্বাগতিকরা। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছেন, ছয় বল ছয় ছক্কা হাঁকানোর পেছনের গল্প। তার সুযোগ নেয়ার চেষ্টায়ই বিশ্ব দেখতে পেয়েছে ছয় বলে ছয় ছক্কার কীর্তি।

প্রথম তিন বলে ছক্কা হাঁকানোর ছয়টি ছক্কার ব্যাপারে ভাবনা মাথায় আনেন পোলার্ড। তার ভাষ্য, ‘তৃতীয় ছক্কা মারার পর ছয়টি মারার চিন্তা আসে। কয়েকটি ছক্কা মেরে দেয়ার পরই বুঝতে পেরেছিলাম, পিচটা কেমন। এখানে ইতিবাচক থেকে নিজের শটগুলো খেলাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত ছিল। দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অবদান রাখতে পারায় আমি খুশি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ষষ্ঠ বলের আগে আমার মাথায় অনেক চিন্তাই ঘুরছিল। আমি ভাবছিলাম,ষষ্ঠ ছক্কার চেষ্টা করব? নাকি ৩০ রানেই খুশি থাকব? তারপর সে (ধনঞ্জয়া) রাউন্ড দ্য উইকেটে গিয়ে আমার প্যাডে বল করল। আমি নিজেকে বললাম, পোলি! সুযোগটা নাও। এভাবেই আমি ক্রিকেটটা খেলেছি সবসময়, বিশেষ করে স্পিনারদের বিপক্ষে। আজকে আমার দিন ছিল, তার (ধনঞ্জয়া) দূর্ভাগ্য।’

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments