২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার নেতৃত্বে ছিলেন লিওনেল মেসি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আবারও দলের প্রাণভোমরার ভূমিকা পালন করেন তিনি। তবে ২০২৮ কোপা আমেরিকায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জার্সিতে তাকে দেখা যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।এ বিষয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া জানিয়েছেন, জাতীয় দলে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি মেসির নিজের।টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাপিয়া বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, আর সেটা শুধুই লিওর (মেসি)। আমরা তাকে শান্তিতে থাকতে দিতে চাই। বিশ্বকাপে সে দারুণ খেলেছে, আমরা তার খেলা উপভোগ করেছি। আমাদের গর্বিত হওয়া উচিত। মাঠে তাকে যতবার দেখেছি, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি। এই বিশ্বকাপেও সে দলের পতাকাবাহক ছিল, যেমনটি আগের প্রতিটি প্রতিযোগিতায় ছিল।’লিওনেল স্কালোনি দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্জেন্টিনার সাফল্যে মেসির অবদানের কথাও তুলে ধরেন এএফএ সভাপতি।তিনি বলেন, ‘আমরা পাঁচটি ফাইনাল খেলেছি, তার মধ্যে চারটিতে জিতেছি। ১০৩ ম্যাচে ৭৬টি জয়, ১৯টি ড্র এবং মাত্র ৮টি হার। ২০২২ থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমরা হেরেছি মাত্র দুটি ম্যাচ-একটি সৌদি আরবের বিপক্ষে, অন্যটি স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে।’
তাপিয়ার মতে, বিশ্বকাপ ফাইনালেও সেরা খেলোয়াড় ছিলেন মেসিই। তিনি বলেন, বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে আমার কাছে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় ছিল লিও। সে ম্যাচের পর ম্যাচ নতুন নতুন রেকর্ড গড়েছে।২০১৮ সালে স্কালোনি আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার পর থেকে দলটি মোট ১৯০টি গোল করেছে। এর মধ্যে ৬০টি গোল এবং ২৬টি অ্যাসিস্ট করে মোট ৮৬টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন মেসি। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক সোনালি অধ্যায়ের কেন্দ্রবিন্দু এখনও তিনিই।গোলদাতাদের তালিকায় মেসির পরে রয়েছেন লাউতারো মার্তিনেজ, যার গোল ৪০টি। তৃতীয় স্থানে থাকা হুলিয়ান আলভারেজ করেছেন ১৫ গোল।
এখন আর্জেন্টিনার সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ২০২৮ কোপা আমেরিকা। তবে সেই টুর্নামেন্ট চলাকালে মেসির বয়স হবে ৪১ বছর। যদিও ওই সময় পর্যন্ত ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে তার চুক্তি থাকবে, তবুও বয়সের কারণে কোপায় কিংবা ২০৩০ বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।তবে এএফএ সভাপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনো চাপ সৃষ্টি করতে চায় না আর্জেন্টিনা ফুটবল কর্তৃপক্ষ।তাপিয়া বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ তার সিদ্ধান্ত। ২০২২ বিশ্বকাপের পরও কেউ জানত না সে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবে কি না। তখনও সে বলেছিল, ‘আমি ম্যাচ ধরে ধরে এগোব।’ এবারও আমরা হয়তো তার সেরা সংস্করণ দেখেছি। তাই তাকে শান্তিতে থাকতে দিতে হবে। সে যেন ফুটবল উপভোগ করতে পারে, আমরাও যেন তার খেলা উপভোগ করতে পারি। শেষ সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।’
